দীপক দাস জালালসি— মল্লিকদের সেলুন কার সে বহুদিন আগের কথা। তখনও আমাদের ‘যথা ইচ্ছা তথা যা’ গ্রুপ হয়নি। ওয়েবসাইটি তো আরও দূরের কথা। কিন্তু মাঝে মাঝে বাইক নিয়ে বেরোতাম আমরা। একবার বেরিয়েছিলাম আমি আর ইন্দ্র। মাজু পেরিয়ে রাস্তার পাশে একটা বাড়ি দেখে একটু থমকেছিলাম। বাড়ি না বলে প্রাসাদ বলাই ভাল। সেই বাড়ির গঠনরীতিতে চোখ আটকেছিল। […]
ইতিহাস ছুঁয়ে
ইস্টিশন ইস্টিশন— তৃতীয় পর্ব
দীপক দাস মুন্সিরহাট— আদায় করা স্টেশন প্রাকৃতিক দৃশ্যে সুন্দর মুন্সিরহাট স্টেশনটি। প্ল্যাটফর্মে ওঠার সিঁড়ির উপরে ছাউনি। সিঁড়ির দু’পাশে গাছ আছে বেশ কিছু। স্টেশনে উঠলে এক বিশাল এলাকায় জুড়ে সবুজের সমারোহ। একটু দূরে গাছপালা ঘেরা একটা আশ্রমও রয়েছে। স্টেশনটির সঙ্গে খুব বেশি পরিচয় নেই। কারণ স্টেশনের উপর দিয়ে গিয়েছি বহুবার। কিন্তু নেমেছি মাত্র একবারই। তা-ও রাতে। […]
নবাবি কেল্লার আংনা মহলের খোঁজে
ফারুক আব্দুল্লাহ বাংলার নবাবেরা যে দুর্গের মধ্যে বসবাস করতেন সেই দুর্গকে বলা হত কেল্লা নিজামত। খুব সম্ভবত অষ্টাদশ শতকের প্রথম দিকে নবাব সুজাউদ্দিনের শাসন কালে নবাবি দুর্গটি নির্মিত হয় ভাগীরথী নদীর পূর্ব পারে। কিন্ত বর্তমানে কালের গ্রাসে সবই ধ্বংসপ্রাপ্ত। বর্তমানে অবস্থা এমন শোচনীয় যে কেল্লা নিজামত বলে আলাদা করে চেনার কোনও উপায় নেই। তবে নবাবি […]
ইস্টিশন ইস্টিশন— দ্বিতীয় পর্ব
দীপক দাস বড়গাছিয়া— কদমতলের স্টেশনটি শিকড়ে যাও। শিকড়ে। বছর কয়েক আগের গানের ভাষায় বললে, ‘গভীরে যাও, আরও গভীরে যাও…’। নবম শ্রেণি থেকে বোধহয় গভীর সন্ধানী হয়ে পড়েছিল মনটা। নাকি অষ্টম শ্রেণিতে? সেই যে বাংলায় নামকরণের সার্থকতা কোশ্চেন! জায়গার নাম পেলেই তার সার্থকতা খোঁজার চেষ্টা করি। যেমন জানলাম মেদিনীপুরের লোধাশুলি। শুলি কোল ভাষার শব্দ। যার মানে […]
বাংলাদেশের ‘প্রথম রসস্রষ্টা’ দ্বারিক ঘোষের বাড়িতে
দীপক দাস ১৯৩৮ সালের ১১ অগস্টের একটি প্রচারপত্র। একটা মিষ্টির দোকানের উদ্বোধন হবে। দোকানটা আসলে এক সংস্থার শাখা। খুলবে শিয়ালদহে। নতুন দোকানের প্রচারের জন্যই এই প্রচারপত্র। তাতে লেখা ছিল, ‘বাংলা ও বাঙ্গালীর বৃহত্তম মিষ্টান্ন প্রতিষ্ঠান’। প্রচারপত্রে আরও লেখা ছিল, ‘ভারতের সর্বত্র এবং বাহিরে সরবরাহ হইতেছে’। যেদিন প্রথম এই প্রচারপত্রটির বয়ান গোচরে আসে সেদিন বক্ষদেশ ৫০ […]
দীন নবাবি দেশে পথিকের বেশে
সুব্রত বিশ্বাস ভেঙে পড়া ইট ধ্বসে পড়া ছাদ/এ কোন নবাবী দেশ।/তবুও সদর্পে বলে ওঠে সে,/দেখো মোর দীন বেশ।/ছাদ ভাঙা ওই মুক্ত আকাশ/যেন বিশাল শামিয়ানা।/পথের ধারে ছড়িয়ে আছে/হাজারো নবাবিয়ানা। কেন যাবেন অজানাকে জানা ও অচেনাকে চেনার কৌতূহল মানুষের বহুদিনের। আর এই অজানা অচেনা স্থানটি যদি পরিত্যক্ত ইতিহাসের দীর্ণ প্রতিমূর্তি হয়, তবে যে তা কৌতূহল নিবারণের ক্ষেত্রে […]
হাটুরে গল্পের খোঁজে সুপারিগোলার হাটে
ফারুক আব্দুল্লাহ ছোটবেলায় গ্রামের বাড়ি গেলে প্রায়ই বায়না ধরতাম দাদুর সঙ্গে হাটে যাব। পাশের গ্রাম শঙ্করপুরে বিকেলে হাট বসত। দাদুও রাজি যেতেন এক কথাতেই। দাদুর হাত ধরে ছোটবেলার সেই হাটে কাটানো সময়গুলো আজও মনে আছে। হাটের গুঞ্জন এখনও কানে ভাসে। খোলা মাঠে বসা ঝুরি, জিলিপি, ঝালবড়ার দোকান থেকে হাওয়ায় ওড়া সুগন্ধ এখনও টের পাই। হাটের […]
হঠাৎ ঝোঁকে ইতিহাসের কাজলাগড়ে
দেবাশিস দাস উড়িষ্যার ময়ূরভঞ্জ। পাহাড়ি এলাকায় এক যাযাবর ব্যাধ জাতির বাস। দলপতির নাম গোবর্ধন। একদিন খাবারের সন্ধানে দলপতির নির্দেশে সমর্থ পুরুষরা বেড়িয়ে পড়ল মৃগয়ায়। বহু স্থানে প্রচুর শিকারের পর সেই দল এসে উপস্থিত হল বর্তমান ভগবানপুরের সুজামুঠা নামের একটা জায়গায়। তখন সুজামুঠা জংলা একটা জায়গা। চারিদিকে জঙ্গল আর সেখানে নানা পশুপাখির বাস। দলপতি সামনে এক […]
নদীর উৎস বাঁশ পাহাড়ে, স্টেশনের নাম বাঁশলৈ
সৌগত পাল লেখাটা শুরু করার আগে ভাবছিলাম লিখব কী। নদীর নামে স্টেশনের মধ্যে এটা রাখা চলবে কিনা। কারণ যে স্টেশনের কথা হচ্ছে সেটা ঠিক নদীর নামে স্টেশন নয়। নদীর উপর ব্রিজের নামে। শেষমেষ দেখলাম, নদী যখন উপস্থিত তখন লিখতে কোনও বাধা নেই। এ স্টেশনও সাহেবগঞ্জ লুপ লাইনের। আগের দু’টো লেখা স্টেশনের মতো (কোপাই আর গুমানি) […]
ইস্টিশন ইস্টিশন
দীপক দাস ডোমজুড়— রাজপাট হারানো এক স্টেশন ‘কাল ছিল ডাল খালি আজ ফুলে যায় ভরে’। রবি কবির আশাবাদী ছড়া। কিন্তু স্টেশনের ইতিহাসে ছড়াটা পুরো উল্টো। ‘কাল ছিল যাত্রী ভরা, আজ সবাই যায় চলে’। দক্ষিণ-পূ্র্ব রেলের হাওড়া-আমতা রুটের স্টেশন ডোমজুড়। কী ভাবে একটা স্টেশন গুরুত্ব হারিয়ে প্রায় পরিত্যক্ত, নির্জন হয়ে যায়, তার বড় উদাহরণ। রেল রুটের […]